ধ্বনি,বর্ণ ও অক্ষর

ধ্বনি,বর্ণ ও অক্ষর


ধ্বনিঃ মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত অর্থবোধক আওয়াজকে ধ্বনি বলে। ধ্বনিই ভাষার মূল ভিত্তি। ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। ভাষার মূল উপাদান হচ্ছে ধ্বনি।
ধ্বনির শ্রেণিবিভাগঃ ধ্বনি দুই প্রকার। যেমন : ক. স্বরধ্বনি ও খ. ব্যঞ্জনধ্বনি।
ক. স্বরধ্বনিঃ যেসব ধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে পূর্ণ ও স্পষ্টরূপে উচ্চারিত হয়, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে। অথবা- যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও কোনো প্রকার বাঁধা পায় না, তাদেরকে বলা হয় স্বরধ্বনি (VowelSound) । যেমন – অ, আ, ই, উ ইত্যাদি।
বাংলা স্বরধ্বনির সংখ্যা- ১১ টি।

খ. ব্যঞ্জনধ্বনিঃ যেসব ধ্বনি স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে পূর্ণ বা স্পষ্টরূপে উচ্চারিত হতে পারে না, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। অথবা- যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও না কোথাও কোনো প্রকার বাঁধা পায় কিংবা ঘর্ষণ লাগে, তাদেরকে বলা হয় ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonant sound) যেমন- ক, চ, ট, ত, প ইত্যাদি।
বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা- ৩২ টি।
বর্ণ : ধ্বনি নির্দেশক সাংকেতিক চিহ্নকে বর্ণ (Letter) বলে । কোনো ভাষার ধ্বনিগুলোকে লিখে প্রকাশ করার জন্য যে প্রতীক বা চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, তাকে বর্ণ বলে। অ, আ, ক, খ প্রভৃতি বাংলা ভাষার একেকটি ধ্বনি-প্রতীক বা বর্ণ। ‘ধ্বনি দিয়ে আট বাঁধা শব্দই ভাষার ইট’- এই ইটকে ভাষার বর্ণ বলে।
বর্ণের শ্রেণিবিভাগঃ বর্ণ দুই প্রকার। যেমন : ক. স্বরবর্ণ ও খ. ব্যঞ্জনবর্ণ।
ক. স্বরবর্ণঃ স্বরধ্বনি দ্যোতক লিখিত সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় স্বরবর্ণ। যেমন – অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ ইত্যাদি।
বাংলা স্বরবর্ণের সংখ্যা- ১১ টি।
খ. ব্যঞ্জনবর্ণঃ ব্যঞ্জনধ্বনি দ্যোতক লিখিত সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় ব্যঞ্জনবর্ণ। যেমন- ক, চ, ট, ত, প ইত্যাদি।
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা- ৩৯ টি।
বর্ণমালাঃ কোনো ভাষার বর্ণসমষ্টির সুনির্দিষ্ট সাজানো ক্রমকে বর্ণমালা বলে।
যে কোনো ভাষায় ব্যবহৃত লিখিত বর্ণসমষ্টিকে সেই ভাষার বর্ণমালা (Alphabet) বলা হয়।
বাংলা বর্ণমালাঃ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত লিখিত বর্ণসমষ্টিকে বাংলা বর্ণমালা বলে। বাংলা বর্ণমালায় মোট পঞ্চাশ (৫০) টি বর্ণ রয়েছে। তার মধ্যে স্বরবর্ণ এগার (১১) টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ঊনচল্লিশটি (৩৯)টি।
বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে। অর্থাৎ বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপির বিবর্তিত রূপ।
স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ ও উচ্চারণ বৈশিষ্ট্যঃ স্বরধ্বনির উচ্চারণে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো জিভের উচ্চতা, জিভের অবস্থা ও ঠোঁটের আকৃতি।
গঠন অনুযায়ী স্বরধ্বনি ২ প্রকার। যথাঃ ক. মৌলিক স্বরধ্বনি ও খ. যৌগিক স্বরধ্বনি।
ক. মৌলিক স্বরধ্বনিঃ যে স্বরধ্বনিকে ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বরধ্বনি বলে।
মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা- ৭ টি। যথাঃ অ,আ,ই,উ,এ,ও,অ্যা।
বাংলা মৌলিক স্বরধ্বনির তালিকায় ‘অ্যা’ ধ্বনিটি যুক্ত করেছেন- ধ্বনিতত্ত্ববিদ মুহম্মদ আব্দুল হাই।
‘অ্যা’ ধ্বনির কোন লিখিত রূপ নেই। মৌলিক স্বরবর্ণের সংখ্যা- ৬ টি। যথাঃ অ,আ,ই,উ,এ,ও।
খ. যৌগিক স্বরধ্বনিঃ যে স্বরধ্বনিকে ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায়, তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বলে।
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি একটি স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হলে মিলিত স্বরধ্বনিটিকে বলা হয় যৌগিক স্বর। একে সন্ধিস্বর, সান্ধ্যক্ষর বা দ্বি-স্বর ও বলে।
যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা- ২৫ টি। তবে যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ/ স্বরবর্ণ মাত্র ২ টি- ঐ, ঔ (ঐ=অ+ই , ঔ=অ+উ)। অন্য যৌগিক স্বরধ্বনিগুলোর নিজস্ব প্রতীক বা বর্ণ নেই।

Leave a Comment