- ভাষাঃ
- ভাষা হচ্ছে ভাবের উচ্চারণ।
- প্রাণিজগতে একমাত্র মানুষের ভাষা আছে।
- মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
- মানবসভ্যতার বিকাশে ভাষার ভূমিকা অপরিসীম।
- ভাষাকে দেশগঠনের হাতিয়ার হিসেবেও গ্রহণ করা হয়।
- ★দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে ভাষার পার্থক্যও পরিবর্তন ঘটে।
- ★বর্তমানে পৃথিবীতে সাড়ে তিন হাজারের ওপর ভাষা প্রচলিত আছে।
- ★পৃথিবীতেসবচেয়েবেশিমানুষকথাবলেমান্দারিনভাষায়। মান্দারিন চিনের ভাষা।
- মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত বাক্ সংকেতের সংগঠনকে ভাষা বলা হয়।
- মানুষের বাগযন্ত্রেরসাহায্যে উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যেমনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
- সংকেত ভাষাঃ
- মানুষ তার বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে ইশারা-ইঙ্গিতের সাহায্য যে ভাষা প্রকাশ করে, তাকে সংকেত ভাষা(Sign Language) বলে।
- ★সাংকেতিক ভাষার অপর নাম – ইশারা ভাষা। ।
- ভাষার মৌলিক অংশঃ
- প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে।
যথা- ১.ধ্বনি (Sound) ২.শব্দ (Word)
৩.বাক্য (Sentence) ৪.বাগর্থ (Meaning)।
- ধবনিঃ মানুষের কন্ঠনিঃসৃত অর্থবোধক আওয়াজকে ধ্বনি বলে।
- ★ ভাষার মূল উপাদান ধ্বনি।
- শব্দঃ কতগুলো বর্ণ পাশাপাশি বসে কোন অর্থ প্রকাশ করলে তাকে শব্দ বলে।
- ★ শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে রূপ বলে।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে।
- বাক্যঃ কতগুলো শব্দ পাশাপাশি বসে কোন বিষয়ে বক্তার মনের ভাব পরিপূর্ণরূপে প্রকাশ করলে তাকে বাক্য বলে।
- বাগর্থঃ শব্দ ও বাক্যের অর্থের আলোচনাকে বাগর্থ বলে।
- ★ব্যাকরণওভাষারমধ্যেভাষাআগেসৃষ্টিহয়েছে।
- ★ভাষারমূলউপাদান –ধ্বনি।
- ★ভাষারমূলউপকরণ –বাক্য।
- ★ভাষাকেবিশ্লেষণকরলেযেক্ষুদ্রতমঅংশপাওয়াযায়তাহলোধ্বনি।
- ভাষার প্রকারভেদঃ ভাষা দুই প্রকার-(ক) মৌখিক ভাষা (Oral Language) ও (খ) লিখিত ভাষা (Written Language)।
- ভাষার লিখন-ব্যবস্থা প্রধানত তিন প্রকার:
১. বর্ণভিত্তিক (Alphabetic): বাংলা, ইংরেজি, রুশ, হিন্দি, তামিল প্রভৃতি ভাষার লিখনব্যবস্থা হলো বর্ণভিত্তিক।
২. অক্ষরভিত্তিক (Syllabic): অক্ষর (Syllable) বলতে বোঝায় কথার টুকরো অংশ। জাপানি ভাষা অক্ষরভিত্তিক ।
৩. ভাবাত্মক (Idiographic): অনেকটা ছবি যেসব ভাষা লেখা হয় তাই ভাবাত্মক ভাষা । চীনা, কোলীয় ভাষা অনেকটা এ-পদ্ধতিতে লেখা হয়।
- মাতৃভাষাঃ
- শিশু প্রথম যে-ভাষা শেখে তা-ই তার প্রথম ভাষা (First Language) বা মাতৃভাষা।
- পৃথিবীর প্রায় ত্রিশ কোটি লোকের মাতৃভাষা বাংলা।
- ★মাতৃভাষার বিবেচনায় সারা বিশ্বে বাংলা ভাষার স্থান চতুর্থ।
- ★বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সার্বজনীন ভাষা বাংলা।
- দ্বিতীয় ভাষা(Second Language):
- মাতৃভাষা ছাড়া যেকোনো ভাষাকেই দ্বিতীয় ভাষা বলে। একে বিদেশি ভাষা (Foreign Language)-ও বলা হয়।
- রাষ্ট্রভাষা :
- রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহারের জন্য কোনো দেশের সংবিধানস্বীকৃত ভাষাকে ঐ দেশের রাষ্ট্রভাষা বলে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের তৃতীয় অনুচ্ছেদে লিপিবদ্ধ আছে : প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
- প্রমিত ভাষা(Standard Language):
- ★একটি উপভাষাকে আদর্শ ধরে সবার বোধগম্য ভাষা হিসেবে তৈরি ভাষারূপই হলো প্রমিত ভাষা।
- উপভাষা ও প্রমিত ভাষার পার্থক্য সুস্পষ্ট:
- প্রমিত ভাষার লিখিত ব্যাকরণ থাকে; উপভাষার থাকে না।
- উপভাষা শিশুকাল থেকে প্রাকৃতিক নিয়মে অর্জন করতে হয়; প্রমিত ভাষা চর্চা করে শিখতে হয়।
- প্রমিত ভাষা শেখার বিষয়; উপভাষা অর্জনের বিষয়।
- ভাষিক সম্প্রদায়ঃ ★একই ভাষা যারা ব্যবহার করে তাদেরকে বলে একই ভাষাভাষী বা ভাষিক সম্প্রদায় (Language Community)। আমরা যারা বাংলা ভাষায় কথা বলি তারা সকলে বাংলাভাষী সম্প্রদায়ের অন্তর্গত।
- বাংলা ভাষাঃ
- সাধারণত বাঙালি জনগোষ্ঠির ভাষাকে বাংলা ভাষা বলা হয়।
- পৃথিবীর প্রায় ত্রিশ কোটি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে।
- ভাষা-ভাষী জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে বাংলা ভাষার অবস্থান চতুর্থ।
- ভাষার জগতে বাংলার অবস্থান সপ্তম।
- বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সার্বজনীন ভাষা বাংলা।
- সিয়েরা লিওন বাংলা ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশঃ
- ★পৃথিবীরআদিভাষারনামইন্দো –ইউরোপিয়ভাষা।
- ★বাংলাভাষারউৎপত্তি /উদ্ভব /জন্মহয়েছেইন্দো –ইউরোপিয়ভাষাগোষ্ঠিথেকে।
- ★বাংলাভাষারউৎপত্তি /উদ্ভব /জন্মহয়েছেপ্রাকৃতভাষাথেকে।
- ★বাংলা ভাষার শব্দ সমূহের মূল উৎস সংস্কৃত ভাষা।
- প্রাকৃতশব্দেরশাব্দিকঅর্থহলো-স্বাভাবিক।
- অপভ্রংশ শব্দের অর্থ – বিকৃত।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অপভ্রংশের কাছে প্রত্যক্ষভাবে ঋণী।
