সংকল্প

  1. কবিতাটির মূলভাব জেনে নিই।

অসীম বিশ্বকে জানার কৌতূহল মানুষের। কিশোরেরও তাই। সে জানতে চায় বিশ্বের সকল কিছুকে। আবিষ্কার করতে চায় অসীম আকাশের সকল অজানা রহস্যকে। সে বুঝতে চায় কেন মানুষ ছুটছে অসীমে, অতলে। বীরেরা কেন জীবনকে অনায়াসে বিপন্ন করে, কেন বরণ করে মৃত্যুকে। সে জানতে চায় দুঃসাহসীরা কেন উড়ছে। তাই কিশোর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, সে আর বদ্ধ ঘরে বসে থাকবে না। পৃথিবীটাকে সেও ঘুরে ঘুরে দেখবে।

  • শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি, অর্থ বলি এবং বাক্য তৈরি করে বলি ও লিখি।

সংকল্প   – তীব্র ইচ্ছা, প্রতিজ্ঞা।

-আমি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার জন্য সংকল্প করেছি।

বদ্ধ      – বন্ধ, আবদ্ধ।

-বদ্ধ ঘরে আলো বাতাস ঢুকতে পারে না।

যুগান্তর – এক যুগের পর আরেক যুগ, যুগের শেষ।

-মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে।

দেশান্তর – এক দেশ থেকে আরেক দেশ, অন্যদেশ।

-বড় হলে আমি দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়াব।

বরণ     – কোনো কিছু সাদরে গ্রহণ।

-আমরা বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিই।

মরণ     – যন্ত্রণা-কঠিন যন্ত্রণা, খুব কষ্ট।

-যারা সাহসী তারা মরণ-যন্ত্রণাকে ভয় পায় না।

চন্দ্রলোক – চাঁদের দেশ।

-মানুষ এখন চন্দ্রলোক ছাড়িয়ে মঙ্গল গ্রহেও যাত্রা করছেন।

অচিনপুর – অচেনা জায়গা, অচেনা স্থান।

-এক ছিল অচিনপুরের রাজকন্যা।

ফেড়ে – চিরে, দুই ফাঁক করে।

-কাঠুরে কুড়াল দিয়ে কাঠটা ফেড়ে ফেলল।

পাঠ্য বইয়ের অতিরিক্ত শব্দার্থ:

ঘর – গৃহ, আলয়।                    জগৎ – পৃথিবী, ধরণী  

কেমন করে – কীভাবে, কী উপায়ে।    ছুটছে – ছুটে চলেছে।  

ইঙ্গিত – ইশারা, সংকেত।             হাউই – আকাশগামী।

পুরে – পূর্ণ করে, ভরে।               পাতাল – ভূগর্ভ, মাটির নিচে।  

আকাশ – গগণ, মহাশূন্য।             বিশ্বজগৎ – পৃথিবী, দুনিয়া।

মুঠো – হাতের মুষ্টি।                  ফুঁড়ে – ভেদ করে।

আপন – স্ব, নিজ।                  

  • শব্দগুলোর অর্থলিখি ও বাক্য তৈরি করি। একটি করে দেখানো হলো।

সংকল্প: প্রতিজ্ঞা

– ভালো কাজ করার জন্য সবাইকে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করা উচিত।

বদ্ধ: বন্ধ

– সে বন্ধ জানালাটি খুলে দিল।

দেশান্তর:

– এক দেশ থেকে আরেক দেশ।-বড় হলে আমি দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়াব।

ইঙ্গিত: ইশারা

– শিক্ষক ক্লাসে সবাইকে চুপ থাকতে ইশারা করলেন।

  • নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর বলি ও লিখি।

ক) কবি বদ্ধ ঘরে থাকতে চান না কেন?

উত্তর: অজানাকে জানার, অদেখাকে দেখার কৌতূহল মানুষের সব সময়। কবিও এর ব্যতিক্রম নন। কবি জগৎটাকে দেখতে চান। তিনি বদ্ধ ঘরে থাকতে চান না। কারণ, তিনি জগতের সমস্ত রহস্য জানতে চান। তিনি জানতে চান, সারা বিশ্বের মানুষ যুগ যুগ ধরে কীভাবে নতুন নতুন আবিষ্কারের নেশায় মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলছে। সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে ডুবুরি কীভাবে মুক্তা সংগ্রহ করে কিংবা দুঃসাহসী বৈমানিক কীভাবে আকাশে পাড়ি জমায়—এ সবকিছুই কবি জানতে চান। এ কারণে কবি বদ্ধ ঘরে থাকতে চান না। বদ্ধ ঘরে আবদ্ধ না থেকে কবি রহস্যঘেরা বিশ্বজগত্টাকে হাতের মুঠোয় পুরে দেখতে চান।

খ) যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে মানুষ ঘুরছে বলতে কী বোঝো লেখো?

উত্তর: যুগ বলতে অনেক বছরের সমষ্টি বোঝায়। ‘যুগান্তর’ শব্দটির অর্থ হলো এক যুগের পর আরেক যুগ। সময়ের হিসেবে ১২ বছরে এক যুগ হয়।

আপন গতিতে এগিয়ে যেতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয় পৃথিবীর অনেক কিছু। নতুন নতুন রহস্য ও ঘটনার সৃষ্টি হয়। সময়ের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষও এগিয়ে চলে রহস্য অনুসন্ধান ও ঘটনার মূল

উদ্​ঘাটনের জন্য। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের এই এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতাকে বোঝানোর জন্যই বলা হয়েছে যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে মানুষ ঘুরছে।

গ) চন্দ্রলোকের অচিনপুরে কারা যেতে চায়?

উত্তর: ‘চন্দ্রলোক’ কথাটির অর্থ হলো চাঁদের দেশ। বিশ্বের মানুষের কাছে

এই দেশ একটি অজানা-অচেনা জায়গা। অজানা-অচেনা জায়গা সম্পর্কে

মানুষ চিরকালই কৌতূহলী। আর এই কৌতূহলী মানুষই চন্দ্রলোকের

অচিনপুরে যেতে চায়। দুঃসাহসী বিজ্ঞানী ও পর্যটকেরা চন্দ্রলোকের

অচিনপুরে যেতে চায়। তারা সেখানকার অবস্থা ও পরিবেশ সম্পর্কে

জানতে চায়, জ্ঞান অর্জন করতে চায়। পৃথিবীর এই দুঃসাহসী মানুষ হাউই

চড়ে চন্দ্রলোকের অচিনপুর অভিযান সফল করতে চায়। জানতে চায়

অচিনপুর চন্দ্রলোকের অজানা সব রহস্য।

ঘ) কবি হাতের মুঠোয় পুরে কী এবং কেন দেখতে চান?

উত্তর: কবি হাতের মুঠোয় পুরে বিশ্বজগৎ দেখতে চান। কারণ, এই

বিশ্বজগতে রয়েছে নানা রকম অজানা রহস্য। অজানা সেসব রহস্য ভেদ

করে তিনি সত্যিটা জানতে চান। আবিষ্কার করতে চান অসীম আকাশের

সব অজানা রহস্য। বুঝতে চান কেন এখানে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে

ঘুরছে, দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটছে, নতুন নতুন বিষয় জানার জন্য অনেক

কষ্ট সহ্য করছে, চন্দ্রলোকের অচিনপুরে যাচ্ছে, মঙ্গলগ্রহ থেকে উড়ে আসা

কোনো সংকেত- এ সবই কবি জানতে চান। এসব অজানা রহস্য জানার

কৌতূহল মেটানোর জন্যই কবি হাতের মুঠোয় পুরে বিশ্বজগৎ দেখতে চান।

পাঠ্য বইয়ের অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর :

ঙ) কীসের আশায় বীর মরণকে বরণ করছে?

উত্তর: ‘বীর’ বলতে বোঝায় যারা কোনো কিছুতে ভয় পায় না, দুঃসাহসী।

তারা অজানাকে জানার জন্য এবং অজেয়কে জয় করার জন্য দুর্গম পথে

এগিয়ে যায়। তারা অনেক কষ্ট সহ্য করে মানুষের কল্যাণের জন্য আবিষ্কার

করে নানা বিষয়। লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য বীরেরা মৃত্যুর মতো কঠিন

যন্ত্রণাকেও সাদরে গ্রহণ করে থাকে। রহস্যভেদ করা, নতুন কিছু সৃষ্টি

করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয়ী হয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং

অজানাকে জানার আশায় বীরেরা মরণকে বরণ করছে।

চ) কবি পাতাল ফেড়ে নামতে চান কেন?

উত্তর: পাতাল বলতে আমরা সাগরের তলদেশ বা মাটির নিচের দেশকে

বুঝে থাকি। মহাকাশের মতো পাতালপুরীও এক অজানা রহস্যঘেরা

জায়গা। অসীম বিশ্বকে জানার অদম্য কৌতূহলী কবি মাটির নিচে পাতালে

কী আছে, তা জানার জন্য পাতাল ফেড়ে সেখানে নামতে চায়। পাতালের

অজানা রহস্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে কৌতূহল মেটাতে চান।

ছ) বীর ডুবুরি কী করে?

উত্তর: গভীর পানিতে ডুব দিয়ে যারা কোনো জিনিস উদ্ধার করে আনে

তাদের ডুবুরি বলা হয়। ‘সংকল্প’ কবিতায় কবি ডুবুরিদের বীর হিসেবে

আখ্যায়িত করেছেন। বীর ডুবুরিরা নদী বা সমুদ্রের তলদেশ থেকে মুক্তা

সংগ্রহ করে। নদী বা সমুদ্রের গভীর তলদেশে কোনো নৌকা, লঞ্চ বা

জাহাজ নিমজ্জিত হলে বীর ডুবুরিরা তা উদ্ধার করে।

জ) কিশোর কী জানতে চায়?

উত্তর: কিশোর অসীম মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। সে জানতে চায় কেন মানুষ অসীমে আর অতলে ছুটে চলেছে, বীরেরা কেন হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করছে। ডুবুরিরা কেন ডুবছে, দুঃসাহসীরা কেন উড়ছে। বিশ্বজগতের সব কিছুর রহস্য জানতে চায় কিশোর।

ঝ) কবি জগৎটাকে দেখতে চান কেন? কবি কী কী দেখতে চান? তিনটি বাক্যে লেখ।

উত্তর: কবি জগৎটাকে জানার জন্য দেখতে চান। কবি যা যা দেখতে চান তা হলো-

১. কবি ঘরের বাইরে এসে জগৎটাকে দেখতে চান।

২. তিনি দেখবেন মানুষ কীভাবে যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে।

৩. মানুষ কেমন করে দেশ-দেশান্তরে ছুটে চলছে।

ঞ) কবি কার সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন? মানুষ কী কী করছে? তিনটি বাক্যে লেখ।

উত্তর: কবি বিশ্বজগৎ ও মানুষ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। মানুষ যা যা করছে তা হলো-

১১. জগৎময় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

২. যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে।

৩. দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে চলছে।

ট)  সৌরজগৎ নিয়ে কিশোরের কী কৌতূহল হয়? চারটি বাক্যে লেখ।

উত্তর: সৌরজগৎ কিশোরের শিশু কৌতূহল হলো-

১. ‘সে আকাশগামী মানুষজন সম্পর্কে জানতে চায়।

২. চন্দ্রলোকের অচিনপুরের রহস্য তাকে নাড়া দেয়।

৩. সে মঙ্গল গ্রহ থেকে আসা ইঙ্গিত শুনতে চায়।

৪. সে পাতাল ফেড়ে নিচে নৈমে আবার আকাশ ভেদ করে উপরে ওঠার সংকল্প করে।

ঠ) চারটি বাক্যে লেখ বিশ্বজগৎকে কিশোর কীভাবে জানতে চেয়েছে?

উত্তর: বিশ্বজগৎকে কিশোর যেভাবে জানতে চেয়েছে তা হলো-

১. কিশোর বীরের মরণ-যন্ত্রণাকে উপলব্ধি করে জগৎকে জানার চেষ্টা করেছে।

২. কখনো চাঁদের দেশের অচেনা স্থান সম্পর্কে তার মনে কৌতূহল জেগেছে।

৩. মঙ্গল গ্রহের ইঙ্গিত এবং আকাশ-পাতালে বিচরণ করার মধ্য দিয়ে সে বিশ্বজগৎকে জানার চেষ্টা করেছে।

৪. সে বিশ্বজগকে একেবারে নিজের হাতের মুঠোয় পুরে দেখতে ও জানতে চেয়েছে।

ড) কিশোর বিশ্বজগৎ দেখতে চেয়েছে কেন? চারটি বাক্যে লেখ।

উত্তর: কিশোর বিশ্বজগৎ যে কারণে দেখতে চেয়েছে তা হলো-

১. কিশোর মন কৌতূহলী হয়।

২. অজানাকে জানতে চায় সে।

৩. বিশ্বজগতের অজানা সবকিছু সম্পর্কে তার কৌতূহল থাকে।

৪. সেই কৌতূহল থেকেই অজানা রহস্য সম্পর্কে জানার জন্য কিশোর বিশ্বজগৎ দেখতে চেয়েছে।

ঢ) ‘আপন হাতের মুঠোয়’ বলতে কী বোঝ? চারটি বাক্যে লেখো।

উত্তর: ১. ‘আপন হাতের মুঠোয়’ বলতে সবকিছু নিজের আয়ত্তে আনা বোঝায়।

২. কিশোর মন কৌতূহলী।

৩. সে চায় বিশ্বজগতের অজানা রহস্য জানতে এবং সবকিছু কাছ থেকে দেখতে।

৪. ‘আপন হাতের মুঠোয়’ বলতে তাই বিশ্বজগৎ আয়ত্ত করাকেই বুঝি।

পাঠ্য বইয়ের অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর :

ক. হাউই চড়ে দুঃসাহসীরা কোথায় যেতে চায়?

উত্তর : হাউই চড়ে দুঃসাহসীরা চন্দ্রলোকের অচিন দেশে যেতে চায়।

খ. কবি কোন ইঙ্গিত শুনতে চান?

উত্তর : কবি মঙ্গল থেকে কোনো অজানা ইঙ্গিত ভেসে আসে কি না তা শুনতে চান।

গ. কবি বিশ্বজগৎ হাতের মুঠোয় পুরতে চান কেন?

উত্তর : কবির বাসনা বিশ্বজগৎকে খুব কাছ থেকে ভালোভাবে দেখার ও বোঝার। এ কারণেই তিনি বিশ্বজগৎকে হাতের মুঠোয় পুরতে চান।

ঘ. মানুষ কিসের ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে?

উত্তর : মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে।

ঙ. কবি আকাশ ফুঁড়ে উঠতে চান কেন?

উত্তর : কবি অসীম মহাকাশের সব রহস্য অনুসন্ধান করতে চান। তাই তার মনে আকাশ ফুঁড়ে ওঠার বাসনা জাগে।

চ. বন্ধ ঘরে কে থাকতে চান না? তিনি কী করতে চান?

উত্তর: বন্ধ ঘরে কবি থাকতে চান না। তিনি জগৎটাকে দেখতে চান।

ছ. কিশোর কীভাবে নামতে চেয়েছে? দুটি বাক্যে লেখ।

উত্তর:    ১. কিশোর মন সাহসী।

২. এই কারণে-কিশোর পাতাল ফেড়ে নামতে চেয়েছে।

  • ক্রিয়াপদের সাধু ও চলিত রূপ শিখি।
চলিত রূপ সাধু রূপচলিত রূপ সাধু রূপ
আঁকবআঁকিবমরছেমরিতেছে
দেখবদেখিবছুটছেছুটিতেছে
ঘুরছেঘুরিতেছেআসছেআসিতেছে
চলছেচলিতেছে  
  • ক্রিয়ার কাল সম্পর্কে জেনে নিই।

ক. আমি কাজটি করি।  আমি কাজটি করেছিলাম।  আমি কাজটি করব।

– উপরের বাক্যগুলোতে ব্যবহৃত ‘করি’, ‘করেছিলাম’ ও ‘করব’-এগুলো ‘করা’ ক্রিয়াপদটির বিভিন্ন রূপ।

যে সময়ে ক্রিয়া বা কাজটি সম্পন্ন হয়, সেই সময়টিকেই ক্রিয়ার কাল বলা হয়। যেমন – বর্তমান কাল, অতীত কাল, ভবিষ্যৎ কাল।

খ.নিচের বাক্যের ক্রিয়াবাচক শব্দগুলোর নিচে দাগ দিই।

উত্তর:    আমি বড় হয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

আমি আমার দক্ষতা অন্যের উপকারে ব্যবহার করি।

কামাল বর্ষাকালে তার গ্রামে গাছ লাগাবে।

তরুণ চিকিৎসক হবে।      মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেবে।

গ. নিচের ভবিষ্যৎ কালবাচক ক্রিয়াপদগুলোকে বর্তমান ও অতীত কালবাচক ক্রিয়াপদে রূপান্তর করি।

থাকব, দেখব, শুনব, খাব, বেড়াব, ঘুরব, পড়ব, খেলব, চড়ব, নামব, ধরব, হাসব;

ভবিষ্যৎবর্তমানঅতীতভবিষ্যৎবর্তমানঅতীত
থাকবথাকিথেকেছিলামপড়বপড়িপড়েছিলাম
দেখবদেখিদেখেছিলামখেলবখেলিখেলেছিলাম
শুনবশুনিশুনেছিলামচড়বচড়িচড়েছিলাম
খাবখাইখেয়েছিলামনামবনামিনেমেছিলাম
বেড়াববেড়াইবেড়িয়েছিলামধরবধরিধরেছিলাম
ঘুরবঘুরিঘুরেছিলামহাসবহাসিহেসেছিলাম
  • শব্দগুলোর বানান লিখি।

বরণ, মরণ, যন্ত্রণা (র-এর পরে ‘ণ’ বসে), বদ্ধ, যুগান্তর, দেশান্তর, বিশ্বজগৎ, ইঙ্গিত।

  • কবির সংকল্পগুলো লিখি।

উত্তর: ‘সংকল্প’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অনেকগুলো সংকল্প করেছেন। কবির সংকল্পগুলো নিচে লেখা হলো:

ক. কবি বন্ধ ঘরে থাকতে চান না।

খ. তিনি জগৎটাকে দেখতে চান।

গ. যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে মানুষ কীভাবে ঘুরছে তা তিনি জানতে চান।

ঘ. মানুষ দেশ-দেশান্তরে কীভাবে ছুটছে তা তিনি জানতে চান।

ঙ. কিসের আশায় লাখে লাখে বীর মারা যাচ্ছে এবং মরণ-যন্ত্রণা ভোগ করছে তা তিনি জানতে চান।

চ. চন্দ্রলোকের অচিনপুরে কে যেতে চায় তা তিনি জানতে চান।

ছ. তিনি মঙ্গলগ্রহের ইঙ্গিত শুনতে চান।

জ. কবি পাতাল ফেড়ে নামতে চান।

ঝ. তিনি আকাশ ফুঁড়ে উঠতে চান।

ঞ. কবি বিশ্বজগৎকে আপন হাতের মুঠোয় পুরে দেখবেন।

  • আমার সংকল্পগুলো লিখি।

উত্তর: আমার সংকল্পগুলো হলো:

আমি ভালোভাবে লেখাপড়া করব।

মা-বাবার কথা শুনব।

বড়দের সম্মান করব।

অজানাকে জানব।

নতুন কিছু আবিষ্কার করার চেষ্টা করব।

মানুষের সেবা করব।

দেশকে ভালোবাসব।

একজন ভালো মানুষ হব।

  1. কবিতাটি আবৃত্তি করি ও মুখস্থ লিখি।

উত্তর: পাঠ্য বই দেখে সঠিক বানান ও উচ্চারণে নিজে মুখস্ত করি ও লিখি ।

  • অনুশীলনীর অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর:
  • কবিতাংশটি পড়ে প্রশ্ন তৈরি করো (কে, কী, কোথায়, কীভাবে, কেন, কখন) প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী।

হাউই চড়ে চায় যেতে কে / চন্দ্রলোকের অচিনপুরে;

শুনব আমি, ইলিত কোন্  / মঙ্গল হতে আসছে উড়ে।।

পাতাল ফেড়ে নামব নিচে / উঠব আবার আকাশ ফুঁড়ে;

বিশ্ব-জগৎ দেখব আমি  / আপন হাতের মুঠোয় পুরে।

উত্তর:    ১. বিশ্ব-জগৎ কে দেখতে চেয়েছেন?

২. মঙ্গলগ্রহ থেকে কী উড়ে আসছে?

৩. হাউই চড়ে কোথায়, যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?

৪. কবি কীভাবে নিচে নামার কথা বলেছেন?

৫. কবি বিশ্ব-জগৎ দেখার সংকল্প করেছেন কেন?

৬. কবি কখন বিশ্ব-জগৎ দেখবেন?

  1. যুক্তবর্ণ বিভাজন করে দেখাও এবং যুক্তবর্ণ দিয়ে তৈরি শব্দ দ্বারা বাক্য গঠন করো।
যুক্তবর্ণবিভাজনশব্দবাক্যে প্রয়োগ
দ্ধদ্ + ধবদ্ধআমি বদ্ধঘরে থাকতে চাই না।
ন্তন্ + তযুগান্তরযুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে মানুষ ঘুরছে।
র্ণর্ + ণঘূর্ণিস্রোতসাগরে ভয়ংকর ঘূর্ণিস্রোত থাকে।
ন্ত্রন্+ত্+রযন্ত্রঘড়ির যন্ত্রটি বিকল হয়ে গেছে।
ঙ্গঙ্ + গমঙ্গলআল্লাহ্ আপনার মঞ্চাল করুন।
শ্বশ্ + ব বিশ্বআমি বিশ্ব-জগৎ ঘুরে ঘুরে দেখতে চাই। 
ন্দ্রন+দ্+র চন্দ্রচন্দ্র রাতে আলো দান করে। 
ল্পল্ + পসংকল্পআমি ভালো কাজ করার সংকল্প করেছি।
  1. এককথায় প্রকাশ করো।

যুগের পর যুগ                       – যুগান্তর

এক দেশ থেকে অন্য দেশ           – দেশান্তর

মরণের মতো যন্ত্রণা                  – মরণ-যন্ত্রণা

চাঁদের দেশ                         – চন্দ্রলোক

যে স্থান অচেনা                      – অচিনপুর

তীব্র ইচ্ছা                           – সংকল্প

অত্যধিক সাহসী                     – দুঃসাহসী

  1. নিচে প্রদত্ত শব্দের দুটি করে সমার্থক শব্দ লেখো:
প্রদত্ত শব্দসমার্থক শব্দপ্রদত্ত শব্দসমার্থক শব্দ
বদ্ধআবদ্ধ, বন্ধ, রুদ্ধমরণমৃত্যু, ইন্তেকাল, অগস্ত্যযাত্রা
জগৎপৃথিবী, ধরা, ক্ষিতিসংকল্পপ্রতিজ্ঞা, শপথ, দৃঢ়তা
দেশ স্বদেশ, জন্মভূমি, মাতৃভূমিসিন্ধুসাগর, বারিধি, জলধি, নীলাম্বু
বীরসাহসী, বলবান, তেজস্বীস্বর্গবেহেশত, অমরাবতী, স্বর্গলোক
চন্দ্রসুধাকর, শশী, শশাঙ্ক, ইন্দুযন্ত্রণাক্লেশ, পীড়া, যাতনা, ব্যথা, কষ্ট
আকাশনভঃ, ব্যোম, দ্যুলোক  
  1. নিচের শব্দগুলোর বিপরীত শব্দ লেখো।
প্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দপ্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দ
আশায়নিরাশারপাতালআকাশ
বীরভীরুদেশেরবিদেশের
বদ্ধমুক্তউঠবনামব
  1.  সঠিক স্থানে বিরামচিহ্ন বসিয়ে কবিতাংশটি পুণরায় লেখো।

থাকব না কো বন্ধ ঘরে

দেখব এবার জগৎটাকে

কেমন করে ঘুরছে মানুষ

যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে

দেশ হতে দেশ দেশান্তরে

ছুটছে তারা কেমন করে

কিসের নেশায় কেমন করে

মরছে যে বীর লাখে লাখে

কিসের আশায় করছে তারা

বরণ মরণ যন্ত্রণাকে

উত্তর:

থাকব না কো বদ্ধ ঘরে

দেখব এবার জগৎটাকে,-

কেমন করে ঘুরছে মানুষ

যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।

দেশ হতে দেশ দেশান্তরে

ছুটছে তারা কেমন করে,

কিসের নেশায় কেমন করে

মরছে যে বীর লাখে লাখে,

কিসের আশায় করছে তারা

বরণ মরণ-যন্ত্রণাকে ॥

Leave a Comment